ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকা ছাড়ানোর আশঙ্কায় ১৯ অক্টোবর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ২ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রিজার্ভ থেকে ২ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ২ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিতীয় দফা ডলার বিক্রি। টিবিএসের প্রতিবেদনটি পড়ুন।
আগেরবারের তুলনায় বেশি দামে ডলার বিক্রি
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল। তখন প্রতি ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা। এবার সেই দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়, অর্থাৎ প্রতি ডলারে ৮৫ পয়সা বেশি।
টিবিএসকে দেওয়া এক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে ডলার কিনছিল। এতে বাজারে বিনিময় হার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ডলারের বাজারে চাপ কেন বাড়ছে
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই পরিমাণ জ্বালানি তেল ও সার আমদানিতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনও বাড়ছে।
টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়কে ছাড়িয়ে যাওয়ায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি ডলার।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসীরা দেশে ১৭৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আমদানি ব্যয় ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে এর ভারসাম্য ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।
ডলার বিক্রির প্রভাব কী হতে পারে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়তে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার চাপ কমানো এবং ডলারের বিনিময় হার দ্রুত বেড়ে যাওয়া ঠেকানো। তবে এই পদক্ষেপের ফল নির্ভর করে বাজারের চাহিদা, ডলারের সরবরাহ এবং বিক্রির পরিমাণের ওপর।
টিবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডলার বিক্রির পরও ওই দিন বাজারে দর কমেনি। সংশ্লিষ্ট এক ব্যাংক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় কেনা গেলেও দিন শেষে দর বেড়ে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা হয়। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পরও তাৎক্ষণিকভাবে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী চাপ পুরোপুরি কমেনি।
ডলারের দর বাড়লে আমদানি করা জ্বালানি, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যমূল্যের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ডলার বিক্রির এই একক পদক্ষেপের ফলে বাজারদর বা মূল্যস্ফীতি কতটা পরিবর্তিত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
সূত্র: কালের কণ্ঠ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) ও ঢাকা ট্রিবিউন।
You must be logged in to post a comment.