খেলাধুলা

মেসি না রোনালদো: ৩০ পেরিয়ে কে বেশি ভালো খেলেছেন?

মেসি না রোনালদো: ৩০ পেরিয়ে কে বেশি ভালো খেলেছেন?
মেসি না রোনালদো: ৩০ পেরিয়ে কে বেশি ভালো খেলেছেন?
এই সংবাদটি শুনুন বাংলা
1 মি.

বয়স ৩০ পেরোনোর পর লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্সের তুলনায় গোলসংখ্যা, অ্যাসিস্ট ও দীর্ঘ সময় ধরে খেলার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স ৩০ পেরোলেই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স কমতে শুরু করে—ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল। তবে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে দেখিয়েছেন, বয়স বাড়লেও গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। প্রশ্ন হলো, ত্রিশের পরের পারফরম্যান্সে কে এগিয়ে?

প্রথম আলোর ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স ৩০ পেরোনোর পর মোট গোল, অ্যাসিস্ট, ম্যাচপ্রতি অবদান ও শিরোপার হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করলে দুই তারকার শক্তির জায়গাও আলাদা হয়ে ওঠে। পরিসংখ্যানে রোনালদো এগিয়ে মোট গোল ও দীর্ঘ সময় ধরে খেলার ক্ষেত্রে; অন্যদিকে মেসির বড় শক্তি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো।

গোল ও অ্যাসিস্টের হিসাবে কে এগিয়ে?

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে অপ্টার পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ৩০ বছর পার হওয়ার পর মেসি ৪৮০ ম্যাচে ৩৭১ গোল ও ১৯৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন। একই সময়ে রোনালদো ৬২২ ম্যাচে করেছেন ৫১৮ গোল ও ১০৬টি অ্যাসিস্ট।

  • মেসি: ৪৮০ ম্যাচে ৩৭১ গোল ও ১৯৬ অ্যাসিস্ট।
  • রোনালদো: ৬২২ ম্যাচে ৫১৮ গোল ও ১০৬ অ্যাসিস্ট।
  • মোট গোল-অবদান: রোনালদো ৬২৪, মেসি ৫৬৭।
  • ম্যাচপ্রতি গোল-অবদান: মেসি ১.১৮, রোনালদো ১.০০।

মোট গোল ও অ্যাসিস্টের যোগফলে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও তাঁকে খেলতে হয়েছে ১৪২টি ম্যাচ বেশি। ম্যাচপ্রতি গোল-অবদান বিবেচনায় মেসি এগিয়ে। অর্থাৎ, মোট সংখ্যার বিচারে রোনালদোর সাফল্য বেশি হলেও প্রতি ম্যাচে কার্যকারিতার হিসাবে মেসির অবস্থান শক্তিশালী।

গোল করা বনাম গোল তৈরি করা

দুই তারকার খেলার ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। রোনালদো গোল করার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা ও ধারাবাহিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে মেসি গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ সাজানো এবং সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে অপ্টার হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বছর পার হওয়ার পর মেসির অ্যাসিস্ট ১৯৬টি, রোনালদোর ১০৬টি। ফ্রি-কিক থেকে মেসির গোল ৪৩টি, রোনালদোর ২২টি। তবে পেনাল্টি বাদ দিয়েও মোট গোলের হিসাবে রোনালদো এগিয়ে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্লাবভেদেও তাঁদের পারফরম্যান্সে পার্থক্য দেখা যায়। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর গোল করার হার ছিল উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ইন্টার মায়ামিতে মেসি গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই উচ্চ কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। তবে বিভিন্ন দেশের লিগের প্রতিযোগিতার মান এক নয়, তাই শুধু ক্লাবের পরিসংখ্যান দিয়ে দুই খেলোয়াড়ের সামগ্রিক দক্ষতা নির্ধারণ করা কঠিন।

শিরোপা ও বড় ম্যাচে প্রভাব

শুধু গোলসংখ্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান ও দলীয় সাফল্যও তুলনার অংশ। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ৩০ বছর পার হওয়ার পর রোনালদোর ১৯টি এবং মেসির ১৭টি শিরোপার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রোনালদোর সাফল্যের মধ্যে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় এবং পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ সালের ইউরো শিরোপা।

অন্যদিকে মেসির উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়। ব্যালন ডি'অরের হিসাবেও ৩০ বছর পার হওয়ার পর মেসি তিনবার এবং রোনালদো দুবার পুরস্কারটি জিতেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইনালের পরিসংখ্যানেও দুজনের আলাদা শক্তি দেখা যায়। প্রতিবেদনের হিসাবে, রোনালদো ফাইনালে গোল করার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও অ্যাসিস্ট ও প্রতি মিনিটে গোল-অবদানের হিসাবে মেসির পরিসংখ্যান ভালো। ফলে কোন খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখা হবে, তা নির্ভর করে কোন ধরনের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

তাহলে বয়স ৩০-এর পর কে ভালো?

মোট গোল, মোট গোল-অবদান এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে খেলার সক্ষমতার বিচারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এগিয়ে। অন্যদিকে ম্যাচপ্রতি গোল-অবদান, অ্যাসিস্ট এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির পরিসংখ্যান শক্তিশালী।

তাই এক কথায় কাউকে সব দিক থেকে সেরা বলা কঠিন। গোল করার ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিলে রোনালদোর পক্ষে যুক্তি রয়েছে। আর গোল করা, গোল করানো এবং ম্যাচপ্রতি অবদানকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে মেসির দাবিও জোরালো।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানের উৎস হিসেবে প্রথম আলো অপ্টা ও ট্রান্সফারমার্কেটের নাম উল্লেখ করেছে। মূল প্রতিবেদনটি পড়তে প্রথম আলোর পূর্ণ প্রতিবেদন দেখুন।

Comments

You must be logged in to post a comment.