হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। তবে দাবিটির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ভোররাতে ড্রোনটি শনাক্ত করার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির এই সামরিক বাহিনী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে ড্রোন ধ্বংসের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ড্রোন ধ্বংসের বিষয়ে যা বলেছে ইরান
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের মহাকাশ বাহিনী পরিচালিত একটি নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পুরো অভিযান ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরনিয়ন্ত্রিত সামরিক ড্রোন, যা নজরদারি ও আক্রমণসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়। তবে এবারের ঘটনায় ড্রোনটির নির্দিষ্ট মডেল, ধ্বংসের স্থানাঙ্ক কিংবা ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এমকিউ-৯ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষদের (Congressional Research Service) একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি আকাশযান ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য আনুমানিক ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন ড্রোনটি ধ্বংস হওয়ার দাবি সত্য হলে মোট ক্ষতির হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে; এ বিষয়ে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের বড় ভূমিকা রয়েছে। এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ড্রোন ধ্বংসের এই দাবি নতুন করে সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে ইরানের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ইরানের আইআরজিসির বিবৃতি ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
You must be logged in to post a comment.