এআই দিয়ে পরিচয় ও ছবি-ভিডিওর অপব্যবহার ঠেকাতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কৃতি স্যানন। ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ অক্টোবর।
কৃতি স্যাননের ছবি-ভিডিওর অপব্যবহার, আদালতের দ্বারস্থ অভিনেত্রী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও ও ডিজিটাল পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার জন্য ভারতের দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। তাঁর আবেদনে নিজের নাম, ছবি ও পরিচয়ের অননুমোদিত ব্যবহার থেকে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে আদালতে শুনানি
প্রতিফলনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরবের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়েছে। শুনানিতে ব্যক্তিত্বের অধিকারসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক আদালতের রায়, গবেষণাপত্র ও অন্যান্য আইনি নথি জমা দিতে কৃতি স্যাননের আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বাংলা সংস্করণের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ব্যক্তিত্বের অধিকারের আওতায় কোন কোন বৈশিষ্ট্য সুরক্ষা পেতে পারে এবং এ ধরনের মামলা বিচারের ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার কতটা—সেসব বিষয় পর্যালোচনা করছে আদালত। নথিপত্র পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর, ২০২৬। তবে শুনানির এই পর্যায়ে আদালত কৃতির পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই।
এআই ও ডিপফেক নিয়ে কেন উদ্বেগ?
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা ছবি ব্যবহার করে বাস্তবের মতো দেখতে কৃত্রিম ভিডিও ও ছবি তৈরি করা সম্ভব। এসব কনটেন্টে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে বিভ্রান্তি, প্রতারণা কিংবা সুনামহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ডিপফেকের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি এমন কিছু বলেছেন বা করেছেন বলে মনে হতে পারে, যা বাস্তবে ঘটেনি। আবার পরিচিত ব্যক্তির ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পণ্যের বিজ্ঞাপন কিংবা বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানো হলে তাঁর সম্মতি ও পরিচয়ের অধিকার নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।
ব্যক্তিত্বের অধিকার বলতে সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির নাম, চেহারা, কণ্ঠস্বর ও পরিচয়ের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের স্বার্থকে বোঝায়। তবে এর আইনি পরিধি ও প্রয়োগ প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।
মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আদালত প্রাসঙ্গিক রায়, গবেষণাপত্র ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দিতে পারে। ফলে কৃতি স্যাননের মামলাটি শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষার প্রশ্ন নয়, এআই-নির্ভর কনটেন্টের ব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের অধিকারের আইনি সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে আনছে।
তবে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মামলার ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, তা জানার জন্য ২৯ অক্টোবরের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সূত্র: প্রতিফলন এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা।
You must be logged in to post a comment.